এফিলিয়েট মার্কেটার ও ব্লগারদের জন্য কনটেন্ট রাইটিং টিউটোরিয়াল।

  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই, ২০১৮
  • ৭২৯ বার পঠিত

কনটেন্ট রাইটিং কি?

কনটেন্ট রাইটিং বলতে বোঝায় আর্টিকেল রাইটিং। আপনি বিভিন্ন বিষয়ের উপরে আর্টিকেল লিখবেন। এখন সেটা আপনার নিজের ওয়েবসাইটেও লিখতে পারেন অথবা আপনি কনটেন্ট রাইটিং করে ফ্রিল্যান্সিংও করতে পারেন। অর্থাৎ অন্যান্য যেই ওয়েবসাইট মালিকরা আছে তাদের ওয়েবসাইটের জন্য আপনি একজন ফ্রিল্যান্স রাইটার হিসেবে লেখালিখি করতে পারেন। এছাড়াও আপনি বিভিন্ন কোম্পানিতেও কনটেন্ট রাইটার কিংবা আর্টিকেল রাইটার হিসেবে জব করতে পারেন। এবং সেই কোম্পানির যে ক্লায়েন্টরা বা কাস্টোমাররা আছে সেই কাস্টোমারদের জন্য আপনি বিভিন্ন বিষয়ের উপরে লেখালিখি করতে পারেন। এইযে যেই লেখা লিখির বিষয়গুলা রয়েছে এগুলোকেই বলা হয় কনটেন্ট রাইটিং।

কনটেন্ট রাইটিং এর কৌশলসমূহ

চলুন কনটেন্ট রাইটিং এর কিছু কৌশলগুলো জেনে আসি, যেগুলো প্রয়োগ করলে আপনি যথেষ্ট উন্নতি দেখতে পাবেন আপনার কনটেন্ট রাইটিং এবং ব্লগিং পেশায়। শুরুতে যেই কৌশলটি আমি আপনাদের বলতে যাচ্ছি এই কৌশলটি একদম নতুনদের জন্য। যারা কনটেন্ট রাইটিং শুরু করতে চায় বা ব্লগিং শুরু করতে চায় কিন্তু বুঝতে উঠতে পারছে না যে আমি কোন জিনিসটা পছন্দ করব, কোন জিনিসটা লাভজনক, কোনটা নিয়ে কাজ করলে আমি দ্রুত সফল হব এবং এই বিষয়গুলো নিয়েই বেশী চিন্তা করতে করতেই সমস্ত সময় পার হয়ে যাচ্ছে কিন্তু শুরু আর করা হচ্ছে না।
এক্ষেত্রে আপনার প্রতি আমার যে সাজেশনটা থাকবে সেটা হচ্ছে যেই বিষয়গুলো আপনি মোটামোটি শিখে ফেলছেন, সেই বিষয়গুলোর উপরেই আপনার ওয়েবসাইটে আর্টিকেল পাবলিশ করে দিন। আমরা প্রত্যেকেই কোননা কোন বিষয় জানি, কিন্তু ঠিক ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করিনা বিধায় সেগুলা আমরা বের করতে পারি না। এবং সবসময় খুঁজতে থাকি কোন টপিকটা নিয়ে লেখা যেতে পারে?

আমি আপনাকে কিছু উদাহরণ দেইঃ ধরুন আপনি এটা পারেন যে কীভাবে ইউটিউবে একটি চ্যানেল তৈরি করতে হয়? আবার আপনি পারেন কীভাবে ইউটিউবের চ্যানেলকে কাস্টোমাইজ করতে হয়? অথবা আপনি ফটোশপ সফটওয়্যারটির ব্যবহার জানেন। কীভাবে ফটোশপকে ব্যবহার করে একটা ছবি ডিজাইন করতে হয়? ওয়ার্ডপ্রেস এর মত একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করে একটা ওয়েবসাইট কীভাবে সেটাআপ করতে হয়? ভিডিও কীভাবে ইডিটিং করতে হয়? ভিডিও ইডিং সফটওয়্যারগুলো কীভাবে ব্যবহার করতে হয়? তারপর ফেসবুকে কীভাবে একটি পেইজ তৈরি করতে হয়? সেই পেইজে কীভাবে প্রোফাইল পিকচার এবং কীভাবে ব্যানার যুক্ত করতে হয়?

এইযে ছোট ছোট বিষয় এগুলো কিন্তু আপনি আমি আমরা এগুলো সবাই জানি। এই বিষয়ের উপরেই আপনি আপনার ওয়েবসাইটে কনটেন্ট পাবলিশ করে দিতে পারেন। একটু সময় নিয়ে চিন্তা করলেই এই ধরনের অনেক ছোট ছোট ট্রিকস বা টিপস াপনার মাথায় চলে আসবে। ১০ থেকে ২০ টার মত কন্টেন্ট আইডিয়া আপনি খুব দ্রুতই বের করে ফেলতে পারবেন। এইযে বিষয়গুলো আছে, এই বিষ্যগুলোর উপরেই আপনি কন্টেন্ট পাবলিশ করে দিন।
কোন নিশ পছন্দ করলে ভাল হবে? কোনটা লাভজনক? এগুলো নিয়ে করে খুব বেশী ওভারচিন্তা না করে বরঞ্চ যে বিষয়গুলো আপনি ইতিমধ্যে পারেন সেটা যত সিম্পলই হোক না কেন সেই বিষয়টার উপরেই আপনি একটা আর্টিকেল লিখে ফেলুন এবং আপনার ওয়েবসাইটে পাবলিশ করে দিন। এভাবে দেখবেন আপনার ওয়েবসাইটে অনেকগুলো কনটেন্ট হয়ে গেছে। এবং এতেকরে আপনি অনেককিছু শিখে ফেলতে পারবেন। যেটা পরবর্তীতে একটা ভালোমানের নিশ পছন্দ করতে আপনাকে অনেক সাহায্য করবে।

যেই বিষয়গুলো পারেন সেই বিষয়গুলো সম্পর্কেই লেখা শুরু করুন। এটা একটা দারুন উপায় কনটেন্ট ধারণা খুঁজে বের করা এবং কনটেন্ট উৎপাদন করা। আমিও যখন নতুন ছিলাম আমিও ঠিক বুঝতে পারতাম না যে কোন টপিকটা সেরা হতে পারে বা কোন নিশটা আমার জন্য সেরা হতে পারে। তখন আমি যা করেছি তা হল আমি যেই বিষয়গুলো সম্পর্কে শিখতে ছিলাম ওই বি্মপরকের উপরেই লেখা লিখি শুরু করে দিয়েছিলাম।

তাহলে চলুন পরবর্তী যেই কৌশলটা আছে সেটি সম্পর্কে জানি।

চেইন কনটেন্ট

কনটেন্ট রাইটিং এর আরো দারুন একটি কৌশল হচ্ছে চেইন কনটেন্ট তৈরি করা। চেইন কনটেন্টটি আসলে কি?
আমি আপনাকে একটি উদাহরণ দেইঃ ধরুন আপনি একটি আর্টিকেল পাবলিশ করলেন যে একটি ইউটিউব চ্যানেল কীভাবে তৈরি করতে হয়? ঠিক তার পরেই আপনি আরেকটি কনটেন্ট পাবলিশ করলেন যে ইউটিউব চ্যানেলে কীভাবে আর্ট যুক্ত করতে হয় বা ব্যানার যুক্ত করতে হয়? পরবর্তীতে আপনি আরো একটি আর্টিকেল পাবলিশ করলেন যে কীভাবে ইউটিউবে ভিডিও থাম্বনেইল (Thumbnail)?
এইযে টপিকগুলো বললাম এগুলা প্রত্যেকটা কিন্তু একেকটার সাথে একেকটা জরিত। যে ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইটে ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করা শিখতে আসবে তারই কিন্তু পরবর্তীতে প্রয়োজন হবে কীভাবে ইউটিউব চ্যানেলকে কাস্টমাইজ করতে হয়? কিংবা ইউটিউবের ভিডিওগুলো জন্য কীভাবে থাম্বনেইল তৈরি করতে হয়? আরটিকেলগুলো পড়ার। অর্থাৎ একজন ভিজিটর আপনার একটি কনটেন্ট পড়তে এসেই সে অন্যান্য কনটেন্টগুলো পড়তে শুরু করবে। তো এইটাকেই বলা হয় চেইন কনটেন্ট।

আবার আরেকটি উদাহরণ দেইঃ ধরুন আপনি একটা ওয়েবসাইট তৈরী করা শিখে গিয়েছেন যে কীভাবে ওয়ার্ডপ্রেসকে ব্যবহার করে একটা ওয়েবসাইট সেটআপ করে ফেলতে হয়? এই বিষয়টা শিখার সাথে সাথেই আপনি আপনার ওয়েবসাইটে পাবলিশ করে দিতে পারেন। যেমনঃ How to create a website using wordpress. এটা পাবলিশ করার পরেই পরবর্তী কনটেন্টটা আপনি পাবলিশ করতে পারেন যে Best hosting companies for launching a website. মানে হচ্ছে সেরা হোস্টিং কোম্পানি বা হোস্টিং যেই সার্ভিসগুলো আছে সেগুলো নিয়েও আপনি একটা রিভিউ আর্টিকেল বা কনটেন্ট পাবলিশ করতে পারেন।এ কনটেন্টটা আপনার সেই ভিজিটরটাও পড়তে শুরু করবে যে ওয়েবসাইট তৈরি করা শিখতে আসছে আপনার সাইটে। কারন হলো যে শিখতে আসছে যে ওয়ার্ডপ্রেস্কে ব্যবহার করে কীভাবে একটা ওয়েবসাইট তৈরি করতে হয় তারই কিন্তু কিছুদিন পরে হোস্টিংটি প্রয়োজন হবে। কারন একটি ওয়েবসাইট চালু করার জন্য একটি হোস্টিং লাগে।

অর্থাৎ ওই আর্টিকেলের মধ্যে আপনি যখন আপনার হোস্টিং এর আর্টিকেলটাও লিঙ্ক করিয়ে দিচ্ছেন তখন এই ভিজিটর এ ওয়েবসাইট তৈরি করার আর্টিকেলটা পড়তে এসে সে হোস্টিং এর আর্টিকেলটাও পড়বে। এটাকেই বলা হয় চেইন কনটেন্ট। অর্থাৎ আপনার ভিজিটরকে একটা বিষয় পড়তে দিয়ে সেটার মধ্যে আরো জরুরী কিছু আর্টিকেলের লিঙ্ক দিয়ে দেওয়া। যেটা ঠিক পরবর্তীতেই প্রয়োজন হবে। এতে করে আপনার ভিজিটররা বেশী থেকে বেশী সময় আপনার ওয়েবসাইটে ব্যয় করবে এবং আপনার ওয়েবসাইটের পেইজ ভিউ বৃদ্ধি পাবে।

সুতরাং চেইন কনটেন্ট তৈরি করা যেটা আসলে সব ধরণের ব্লগাররাই বা যারা ওয়েবসাইটে লেখালিখি করে তারা এই কৌশল ব্যবহার করে থাকে এবং আপ্নিও অবশ্যই এই কৌশলটি ব্যবহার করবেন।

বিনামূল্যে

এ কৌশলটি হচ্ছে আপনার ওয়েবসাইটে বিনামূল্যে কনটেন্ট পাবলিশ করা বা বিনামূল্যে প্রোডাক্ট পাবলিশ করা। বিশেষ করে আপনি যদি ইতিমধ্যে কোন প্রোডাক্ট তৈরি করতে পারেন।

ধরেনিন আপনি একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার, আপনি একজন ভিডিও ইডিটর, আপনি ফটোশপ পারেন বা ছবি ইডিটিং এর বিভিন্ন কাজ আছে যা ফটোশপ দিয়ে করা হয়। এ কাজগুলো আপনি পারেন বা আপনি একজন কম্পিউটার প্রোগ্রামার, আপনি ভালো কোডিং করতে পারেন। এ কাজগুলো দ্বারা কিন্তু ডিজিটাল প্রোডাক্ট তৈরি করা যায়। বিভিন্ন ভিডিও ইফেক্ট, অ্যানিমেশন ইত্যাদি এগুলো কিন্তু ডিজিটাল প্রোডাক্ট।
এগুলোকে আসলে প্রিসেট বলা হয়, ফটোশপেরও অনেক প্রিসেট আছে, এডোবি প্রিমিয়ার প্রো এরও অনেক প্রিসেট আছে। আবার যদি আপনি কোডিং জেনে থাকেন বা কম্পিউটার প্রোগ্রামিং জানেন, তাহলে কোডিং এর উপর বিভিন্ন সফটওয়্যার কিংবা টেমপ্লেট তৈরি করতে পারেন। আপনি যদি গ্রাফিক্স ডিজাইনার হন তাহলে আপনি বিভিন্ন ধরণের ডিজাইন তৈরি করতে পারবেন। যেমনঃ ব্যানার ডিজাইন, পোস্টার ডিজাইন, ফেসবুক কভার ডিজাইন, ইউটিউব চ্যানেল আর্ট ডিজাইন ইত্যাদি এধরনের প্রোডাক্টগুলো আপনি ডিজাইন করে আপনার ভিজিটর বা গ্রাহকদের জন্য বিনামূল্যে দিয়ে দিতে পারেন।

ফ্রি জিনিস সবাই পছন্দ করে। সবারই ফ্রি জিনিস প্রয়োজন তাদের বিভিন্ন প্রোজেক্ট এর জন্য। সুতরাং আপনি অবশ্যই আপনার ওয়েবসাইটে বিনামূল্যে বা ফ্রি প্রোডাক্ট পাবলিশ করার চেষ্টা করবান। যদি আপনি এ সংশ্লিষ্ট কোন কাজ পারেন। যদি কোন ধরণের নাও পেরে থাকেন তাহলেও কোন সমস্যা নেই। আপনি কনটেন্ট রাইটিং চালিয়ে যান।

যদি পারেন তাহলে অবশ্যই ফ্রি কনটেন্ট পাবলিশ করবেন এতে আপনার ওয়েবসাইটের প্রতি একধরনের আস্থা তৈরি হবে, একটি ভ্যালু তৈরি হবে এবং আপনার ওয়েবসাইটে যে ট্রাফিকগুলো আসবে তারা বারবার আপনার ওয়েবসাইটে আসবে, আপনার সেই ফ্রি প্রোডাক্ট বা কনটেন্টগুলো ব্যবহার করার জন্য। এমনকি এ কনটেন্টগুলো তারা তাদের বন্ধু, পরিবার কিংবা বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম অথবা ফোরামে শেয়ার করবে। এতে করে উচ্চ মানের ব্যাকলিংক পাওয়ার সুযোগও আপনার জন্য অনেক আংশে বেড়ে যাবে।

অতএব এ কৌশলটা অবশ্যই প্রয়োগ করার যেষ্টা করবেন। অর্থাৎ আপনি যদি কোন কিছু তৈরি করতে পারেন সেটা আপনার ওয়েবসাইটে আপনি ফ্রি হিসেবে আপনার ভিজিটরদেরকে ব্যবহার করতে দিন।

আপনার পছন্দের ওয়েবসাইটগুলোকে লক্ষ্য করুন

এ কৌশলটি হচ্ছে Follw your favourite blogs.

ফেসবুক ইউটিউব বাদেও আপনি কিন্তু অনেক ওয়েবসাইট পড়েন। অর্থাৎ আপনি যে বিষয়ে কৌতূহলী, সেই বিষয়গুলোর অনেক ওয়েবসাইটে কিন্তু আপনি ভিজিট করছেন। সেই ওয়েবসাইটের কনটেন্টগুলো পড়ুন এবং দেখুন তারা কীভাবে কনটেন্টটি লিখেছেন। এরপর সেটা থেকে একটা বুদ্ধি নিন বা ধারণা নিন। ধারণা নিয়ে আপনি আপনার মতো কনটেন্ট লিখুন। তাদেরকে হুবোহুব কপি করার কোন প্রয়োজন নেই। আপনি আপনার মত করে লিখবেন কিন্তু অন্যান্য লেখকদের থেকে বা অন্যান্য যে ব্লগ পোস্টগুলো আছে সেগুলো থেকে একটা ধারণা নিয়ে আপনিও আপনার মতো লিখতে পারেন।

কনটেন্ট রাইটিং করার জন্য অবশ্যই আপনাকে অন্যান্য কনটেন্ট রাইটারদের কনটেন্টগুলো ভালোভাবে পড়তে হবে। যত বেশী আপনি পড়বেন অন্যান্য রাইটারদের কনটেন্ট আপনি ততোই আপনার নিজের রাইটিং বা লিখার দক্ষতাকে বিকাশ করাতে পারবেন।

সুতরাং অন্যান্য কনটেন্ট রাইটারদের কনটেন্ট বেশী বেশী পড়ুন। সেগুলো থেকে শিখুন এবং আপনার নিজের ব্লগে আপনি আপনার মত করে অনুশীলন করুন। একটা কথা মনে রাখবেন যে আপনার ব্লগে কোন ভুল হলেও সমস্যা নেই। আপনার ওয়েবসাইট আপনার ভুল। কিন্তু আমি ভুল লিখলে কেউ যদি কিছু বলে? তাতেই কিছু যায় আসে না। আপনি আপনার মর করে লিখে যান। একদিন ভুল করবেন, দুদিন ভুল করবেন, এভাবে ধীরে ধীরে একটা সময় দেখবেন আপনি অনেক উন্নতি লাভ  করে ফেলছেন।

Reading is a one of the key factor to become a pro content writer.

অবশ্যই আপনি বেশী থেকে বেশী পড়বেন অন্যান্য কন্টেন্ট রাইটারদের কনটেন্টগুলো থেকে।

একটা ব্লগ শুরু করার সাথে সাথেই আয়ের কথা চিন্তা করা যাবে না। শুরুতেই আপনার কনটেন্ট রাইটিং দক্ষতাকে কীভাবে উন্নতি করতে পারেন সেই দিকে আপনাকে সবচেয়ে বেশী একাগ্রতা বা মনোযোগ দিতে হবে। অতএব যে কৌশলগুলো আপনাকে বললাম সেগুলো অনুসরণ করুন এবং আপনার কনটেন্ট রাইটিং দক্ষতাকে আপনি বিকাশ করতে থাকুন।

ফেসবুক মন্তব্যসমূহ

প্রকাশনাটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো পোস্ট